Spread the love

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে কর্মস্থল ও বাসস্থান সহ বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একথা ধারাবাহিকতায় নতুন করে ছাদে বাগান করেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য

লাল গোলাকার চিহ্ন দেওয়া লোকটি মরহুম আব্দুল মালেক ‌। ছাদ কৃষি’র উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ এর পিতা।

,সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রায় ৪৭ বছরের সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আলহাজ আব্দুল মালেক এর পুত্র মনজুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ এ ছাদ বাগান করেন।

মনজুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ, ছাদ বাগানের উদ্যোক্তা, সরিষাবাড়ী, জামালপুর।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা বাজারে অবস্থিত তার বাড়ীর দ্বিতল ও তৃতীয় ভবনের ছাদে এ ছাদ কৃষি গড়ে তোলেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ছাদ কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মনজুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ । বিগত কয়েক বছরে বাড়ির ছাদ ও আঙ্গিনায় বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও সবজি গাছের চারা রোপন করেছেন। দিন দিন তার এই ছাদ কৃষির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে তৈরি করছেন বাগান।
মনজুর ইসলাম বিদ্যুৎ কয়েকটি ড্রামে ফুল ও ফলছ চারা রোপণ করে।
চারা গুলোতে পরিচর্যার করার পর ফুল ও ফল দেখে পুরে ছাদে বাগান তৈরির পরিকল্পনা নেন তিনি। পরবর্তীতে ছাদ বাগানে আম, কমলা, কামরাঙ্গা, ডালিম, ছবেদা, চাইনিচ কমলা, লেবু, পেয়ারা, বড়ই, মালটা, আপেল,পেঁপে, আমড়া সহ মৌসুমী শাক সবজি বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ঔষধি গাছ রোপন করেন ।
। প্রতিটি মাদায় একটি করে ফলদ, বনজ ও সবজি গাছ লাগানো। বিভিন্ন গাছে ধরেছে ফুল ও ফল । মালটা গাছে মালটা, কমলা গাছে কমলা, লেবু গাছে লেবু, কামরাঙ্গা গাছে কামরাঙ্গা ধরেছে। এছাড়া গোলাপ, জুই, চামেলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। ফুল ও ফলের পাশাপাশি রয়েছে সবজি গাছ লাউ , লাল শাক,পুঁই শাক, ঢেঁড়স, শসা, বরবটি ও বেগুন প্রভৃতি। কৃষকদের ছাদে বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল ও সবজির ছোট বড় মাদা। এর মাঝে গোধূলি বেলা কাটানোর জন্য তৈরি করেছেন বাঁশ, কাঠ,পাট কাঠের তৈরি বসার ছাঁচ। এখানে পারিবারিক ও বিভিন্ন সামাজি গল্পগুজব অনুষ্ঠান করেন ছাদ বাগানে।এতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছন তিনি। তার সফলতা দেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছাদে মাদা তৈরি করে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও সবজি গাছের চারা রোপন করেছেন অনেকেই । এতে তারা ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। ফলে দিন দিন ছাদ কৃষির প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, প্রথমে সখের বসে করলেও এখন পুষ্টিকর ও মান সম্মত খাবারের জন্য ফলদ , সবজি ঔষধি চাষ করছি। তিনি আরো বলেন আমার ছাদের বাগানে মিষ্টি জলপাই, লিচু, আমরুল, ছফেদা, নাগপুরি কমলা ও থাই কমলার ফলন ভালো হয়েছে। এ ছাড়া সবজিও ভালো হয়।
আমার পাশাপাশি এ ছাদ কৃষি গাছের পরিচর্যা করছেন আমার স্ত্রী ও সন্তান। তিনি আরো বলেন, এ বছর ছাদে রোপিত গাছের লেবু ও কমলা সারাবছর নিজেরা খেয়েছি আবার প্রতিবেশীদের দিয়েছি। এখান থেকে রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পরিবারের অনেক ঘাটতি পূরণ করে। ছাদ বাগার দেখতে প্রতিনিয়ত মানুষ আসে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানও করা হয়। আমার দেখাদেখি ছাদ কৃষি করতে অনেকেই শুরু করেছে ।ছাদ কৃষিতে উৎপাদিত ফসল যেমন বিষমুক্ত তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর। ছাদ কৃষিতে প্রশিক্ষণ ও কারিগড়ি প্রযুক্তির ব্যবহার নেই বলে জানান ।প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সহায়তা পেলে ছাদ কৃষি আরো প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী।
সরিষাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শহরের বসবাসরত মানুষ তাদের ভবনের ছাদে স্বল্প পরিসরে ফল ও সবজি উৎপাদন করে প্রতিদিন বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল ও সবজি খেতে পারে। এতে একাধারে যেমন দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে তেমনি নিজেরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে পারে। মানুষ ছাদ কৃষিতে এগিয়ে আসলে কৃষি সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করি। তিনি আরো বলেন, ছাদ কৃষি বিস্তারের জন্য কারিগরি ও প্রযুক্তির সহায়তার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।


Spread the love