বুধবার, ১ এপ্রিল , ২০২০. ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ,
Home আইন আদালত নৌ-পথে চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবে না-এসপি মিজান

নৌ-পথে চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবে না-এসপি মিজান

নৌ-পথে চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবে না-এসপি মিজান
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার: বিনা পুজিতে অর্থ আদায়ের পথ হচ্ছে নৌ পথে চাঁদাবাজী। নবাগত পুলিশ সুপার সুনামগঞ্জে যোগদানের পর চাঁদাবাজী,সন্ত্রাসী, মাদক ও জুয়ার বিরোদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনার পরও নৌপথে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব থামছে না। ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা ও বালি পাথর ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান রনি ধোপাজান নদীতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবী জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে সদর থানার ওসি তৎক্ষনাথ সদর থানার এসআই মুহিতের নেতৃত্বে পুলিশ পাঠিয়ে চাঁদাবাজদের ধরার চেষ্টা করেন। পুলিশের খবর পেয়ে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়। নৌযান চালক ও ব্যবসায়ীদের একাধিক সূত্র জানায়, বালু-পাথর ডাম্পিং এলাকা ঘিরে সুরমা ও ধোপাজান নদীর মোড়ে মোড়ে প্রায় দেড় ডজন চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট নামে-বেনামে বিভিন্ন রশিদ ও টোকেনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চলে এসব চাঁদাবাজীর খেলা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় তারা। জেলার অন্যতম ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র ছাতক -সিলেটের- গোয়াইনঘাট এবং ছাতক থেকে সুরমা নদীর প্রবাহ ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বালি-পাথর সরবরাহকারী নৌ পরিবহনে চলে এসব চাঁদাবাজী। বালু-পাথর পরিবহনে বাল্কহেড, কার্গো, স্টিলবডি নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা নদীর চলতি পথে চাঁদা উত্তোলন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালু-পাথর ব্যবসায়ী ও নৌকার সুকানীরা জানান, আমরা অনেক দুরদুরান্ত থেকে আসি বালি পাথর পরিবহন করতে কিন্তু ছোট ছোট ট্রলার নিয়ে চাঁদাবাজরা আমাদের নৌ-পরিবহনের পিছু নেয়। ইচ্ছা অনিচ্ছায় তাদের চাহিত চাঁদা দিতে হয়। অন্যথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পাশাপাশি সাথে থাকা মোবাইল, নগদ অর্থ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার সাহস থাকে না। এই চাঁদাবাজদের হাতে অনেক নৌ পরিবহণ শ্রমিক আহত ও নিহত হয়েছেন। ছাতক থেকে ঢাকা যেথে কমপক্ষে ১৫ প্রকার টোকেন দেখিয়ে চাঁদাবাজরা বিভিন্ন স্থানে নৌযান আটকিয়ে প্রতিটি বাল্কহেড, কার্গো, স্টিলবডি নৌকা থেকে নূন্যতম ৫শ থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এসব চাঁদার টোকেনে নাম হিসেবে রয়েছে- উজান-ভাটি, চলতি নদী, বিআইডব্লিউটিএ, বাঁশ মার্কা, ইউনিয়ন পরিষদ ট্যাক্স, পৌরসভার নিলাম ট্যাক্স ইত্যাদি। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ারঘাট ও আমবাড়ি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এবং সুরমা নদীর উপর নবনির্মিত আব্দুর জহুর সেতু সংলগ্ন সুরমা নদীতে,ওয়েজখালির ভাটিতে দাপটের সাথে চাঁদা আদায় করছে উজান-ভাটি, বিআইডব্লিউটিএ, চলতি নদী নামক টোকেনধারী সিন্ডিকেট চক্র। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় এসব চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠছে। চাদবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়। সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব আহমদ জানান, সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা ধোপাজান অংশে ডাম্পিং কেন্দ্র ডলুরা, জিনারপুর, বালাকান্দি, মনিপুরিঘাট, উড়ারকান্দা, অক্ষয়নগর, ইব্রাহিমপুর, সদরগড়, সুনামগঞ্জ পৌরসভার অভ্যন্তরে বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালি, হবতপুর, টুকেরবাজার প্রভৃতি স্থানে প্রতিদিন বালু-পাথরবাহী নৌযান আটকে বিভিন্ন নামের টোকেন দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। নৌকার ধরণ অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি হয়ে থাকে। জান্নাত-২ এর চালক রুহুল আমিন জানান, প্রতি কার্গো, বাল্কহেড থেকে চাঁদা না দিলে আমাদের উপর বেদম মারধর করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ট্রিপ নিয়ে চলতি পথে নৌপথ খুবই ভয়ংকর। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় নৌযান পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দর, ভৈরব-এর উপ-পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানর জানান, নদী দিয়ে ভাসমান চলন্ত নৌকা, বাল্কহেড, কার্গো বা ট্রলারকে টোল দেয়ার বিধান নাই। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে বিআইডব্লিইটিএ’র আওতায় শুল্ক আদায় কেন্দ্র নামে অন্য কোন ঘাট বা পয়েন্ট ইজারা দেয়া হয় নাই। কেউ বিআইডব্লিউটিএ’র নামে কোন ঘাটে টোল আদায় করলে সেটা বেআইনী ও চাঁদাবাজী। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত জানান, সুনামগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত সুরমা নদীর তীরে নৌযান থেকে বালু-পাথর ডাম্পিং করা হলে তা থেকে ট্যাক্স আদায় করতে পারবেন কিন্তু চলন্ত নৌযান থেকে ট্যাক্স আদায় করার বিধান নাই। এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান বিপিএম জানান, সুনামগঞ্জের নৌপথে চাঁদাবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। সুরমা নদী, ধোপাজান কিংবা যাদুকাটা নদীতে কোন ধরনের চাঁদাবাজীর শিকার হলে আমাদেরকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Spread the love